বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির কারণে ঋণগ্রস্ত উদীয়মান দেশগুলোর চাপ বাড়ছে। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর মাধ্যমে আরো ঋণ নেওয়ার বিষয়ে দুবার ভাবতে হবে। লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেছেন।
ঐ সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ঋণ গ্রহণের দুর্বল সিদ্ধান্ত ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সেজন্য চীনকে তাদের দেওয়া ঋণ মূল্যায়নে মনোযোগী হতে হবে। অর্থমন্ত্রী এ সময় শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশটিতে চীনা সহায়তা নেওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তা শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনলাইনে প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বাংলাদেশের ঋণ চাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে আইএমএফ কাছ থেকে মোট সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা চায়। যা দেশীয় মুদ্রায় ৪২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ প্রথম কিস্তিতে সংস্থাটির কাছে ১৫০ কোটি ডলার চেয়েছে। তবে আইএমএফ অর্থের পরিমাণ এখনো উল্লেখ করেনি।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সিসহ অন্যান্য বহুজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকেও ৪০০ কোটি ডলার চাইছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এসব ঋণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চীনা ঋণ নিয়ে প্রশ্ন করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে, আমরাও চাপের মধ্যে আছি। তবে শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএমএফের তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৬২ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার, যার বেশির ভাগই বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের পাওনা। দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৯০০ কোটি ডলার বা ১৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় এখন প্রায় ২ হাজার ৬০০ ডলার, যা প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি। দেশ সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষা, বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।