ভূমিকম্পে নি’হতেদের কফিন বহন করলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

42

স্টাফ রিপোর্টার: ইউরোপের দেশ তুরস্কের ইলাজিগের সিভরাইস জেলায় ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। ভূমিকম্পে নি’হতদের লাশ দাফনে অংশগ্রহণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান। খবর তুর্ক প্রেস।এদিন তিনি ভূমিকম্পে নি’হত এক মা ও তার ছেলের জানাজায় অংশ নেন। পরে তাদের কফিন বয়েও নিয়ে যান। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে

ভূমিকম্প মোকাবিলায় তুরস্কের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না এমন অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে এরদোয়ান এ কথা বলেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, গুজবে কান দেবেন না। কারও নেতিবাচক, পরস্পরবিরোধী প্রোপাগান্ডা শুনবেন না এবং জেনে রাখু’ন আমরা আপনাদের চাকর।ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এলাজিগ প্রদেশের সিভরিস শহরে ভূমিকম্পের আঘাতে অনেক ভবন ধসে পড়েছে।ভূমিকম্প শেষ হলে প্রায় ৪০০ সদস্যের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয় এলাজিগ প্রদেশের সিভরাইস শহরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে।

এখন পর্যন্ত ৩১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পে আ’হত হয়েছে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ।সিভরাইস শহরের ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবর নিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আ’হতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।ভূমিকম্পে মৃতদের জানাজা ও দাফন কাফনে সরাসরি শরিক হতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এলাজিগ প্রদেশে সফর করেছেন। জানাজার পরে নিজের কাঁধে বহন করে একজনের লাশ কবরস্থান পর্যন্তও নিয়ে যান তিনি।কুরআনের হাফেজ এ প্রেসিডেন্ট শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই থেমে থাকেননি। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। ফাতেহা পাঠ করে কবর জেয়ারত করতেও ভুলেননি তিনি। তার ধর্মীয় সব কাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, তুরস্কে প্রায়ই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ১৯৯৯ সালে। সে বছর দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমিত শহরে ভূমিকম্পের আঘাতে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

Loading...