সুফিয়ান-নাসরিন দম্পতির একমাত্র ছেলে নাফিস। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র। শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মা-বাবাকে দেখতে বাসায় এসেছিল। দুপুরে বাসায় খাবার খেয়ে বিকেলে ফিরে যায় মাদরাসায়। আর আজ মাদরাসা থেকে এসে পেল তাদের নিথর দেহ।
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার শিকদারপাড়া এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে স্বামী-স্ত্রীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নাফিস জানায়, মা কারখানায় ও বাবা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন। নানা সময় তার করা আবদার দুজনই পূরণ করতেন। যতটুকু আয় হতো তাতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ-বিরোধ ছিল না তাদের। এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নাফিস।
নিহত নাসরিনের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কিছুটা বিরোধ ছিল তাদের মধ্যে। তবে এত বড় ঘটনা ঘটানোর মতো বিরোধ তাদের মধ্যে ছিল না। তবে এটা দুর্ঘটনা না আত্মহত্যা এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার শিকদারপাড়া এলাকার শুকুর শিকদারের বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী মো. আল-আমিন বলেন, আজ ভোর ৫টার দিকে নিহতদের ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি। পরে অন্যদের সহায়তায় শাবল দিয়ে ঘরের স্টিলের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
জিএমপির কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন জানান, মহানগরের কোনাবাড়ী থানার শিকদারপাড়া এলাকার শুকুর শিকদারের ছয়তলা বহুতল ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরী শনিবার নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে ভেতর থেকে লাগানো স্টিলের দরজা শাবল দিয়ে ভেঙে খাটের ওপর থেকে স্ত্রী ও ফ্লোরে থাকা স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি আরও জানান, তাদের মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। তারা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন নাকি মৃত্যুর পর আগুন লেগেছে আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইরে নিয়তি।।।।আল্লাহ এমন কষ্ট দিওনা কাওকে।।।
Amin
Amin