Breaking News

বিএনপি সন্ধানে পুলিশের ‘মোবাইল থেরাপি’

আলী হোসেন। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া। সৌদি আরব যাওয়ার জন্য আসেন ঢাকায়। ওঠেন বনানীর কাকলী ইনসাফ নামে একটি আবাসিক হোটেলে। শনিবার রাত পৌনে ১১টায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। পুলিশ তাকে ডেকে তোলে। জানতে চায় পরিচয়। একপর্যায়ে আলী হোসেনের মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। বলতে থাকেন আপনার সঙ্গে বিএনপি বা জঙ্গিদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না মোবাইল দেখতে হবে। কিন্তু কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পর চলে যান পুলিশ সদস্যরা। একই ঘটনা ঘটে উত্তরার আজমপুরে। নজরুল ইসলাম নামে এক পথচারীকে আটকে মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছুই পায়নি পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই দুজনের মতোই অনেককে আটকে ব্যবহৃত মোবাইল সেট ঘাঁটাঘাঁটি করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসেন ডিএমপি কমিশনার। ওই বৈঠকে ঢাকার ৮ ক্রাইম জোনের ডিসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও মেসে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় অবস্থানরত বিএনপির হিটার কর্মীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রাতভর অভিযানে নামে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ১ ডিসেম্বর থেকে চলা এ অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে; বিশেষ করে শনিবার রাতে রাজধানীর সব আবাসিক হোটেল ও মেসে একযোগে তল্লাশি চালানোয় আতঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ওই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭২ জনকে। পুলিশের দাবি, ধৃতরা সরকারবিরোধী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবে বিএনপির দাবি, তারা নিরীহ নেতা-কর্মী। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতে ডিবি পরিচয়ে অভিযান চালানো হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের শাহজাহানপুরের বাসায়। এ সময় তিনি বাসায় না থাকলেও তার সহধর্মিণীর বড় ভাই আব্দুর রহমান সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় গ্রেপ্তার করা হয় ধানমন্ডি থানার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা জাকির, মিঠু, টুটুলসহ অনেককে।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর হচ্ছে পুলিশ। গতকালও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব কটি ইউনিট প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, শান্ত পরিবেশ অশান্ত করলেই কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি করা যাবে না।

রাজধানীতে বিএনপির গণসমাবেশ সামনে রেখে ঢাকার বাইরে থেকে কোনো ‘বহিরাগত’ যাতে আবাসিক হোটেল ও মেসগুলোয় উঠতে না পারে, সে জন্য তল্লাশি চালাবে পুলিশ। অকারণে বাইরের কোনো লোককে ঢাকায় অবস্থান করতেও দেবে না। ইতিমধ্যে আবাসিক হোটেলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতেও তল্লাশিচৌকি বসিয়ে লোক-সমাগম ঠেকানোর কৌশল নিয়েছে পুলিশ। বঙ্গভবন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারেও পুলিশ কাজ করছে। এসব স্থাপনায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির সমাবেশ সামনে রেখে কোনো ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে না। অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই বিশেষ অভিযান চালায়। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে কোনো মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে তাদের দমন করা হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগাম তথ্য সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পনামাফিক কাজ করছে। কোনো দলকে টার্গেট করে অভিযান চালানো হচ্ছে না। জঙ্গিবাদ ও সরকারবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত ব্যক্তি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখার এক আদেশে দেশের সব পুলিশ ইউনিট প্রধান ও সব জেলার পুলিশ সুপারদের এই বিশেষ অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঢাকার আদালত থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিকে বিবেচনায় এই অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস, বড়দিন এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের নিরাপত্তা নিশ্চিতও এই অভিযানের অংশ। ধারণা করা হচ্ছে, আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টারে অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে এসব স্থানে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ তারিখ বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানোর পাশাপাশি জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশনায়।

সূত্র জানায়, গতকাল অভিযানের সময় রাজধানী ঢাকার সব আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে পুলিশকে জানানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেসগুলোতে নজরদারি চালাতে কাজ করছে সাদাপোশাকের পুলিশ। এ ছাড়া বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনেও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের রায়টকার, জলকামানসহ রিজার্ভ ফোর্সদের। পল্টন পার্টি অফিসের সামনে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রথমে পুলিশ ধৈর্য ধারণ করবে। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ তারিখ থেকেই বিএনপির পার্টি অফিস ও আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেবে পুলিশ। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সাভারে ১০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার : সাভারের বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযানে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের তিনটি মামলায় ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাদের ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) নয়ন কারকুন। এর আগে শনিবার রাতে সাভার পৌরসভা ও হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আড়াইহাজারে ২ কর্মী গ্রেপ্তার : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নাশকতার মামলায় বিএনপি দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আলমাছ আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন কাকন (৪২) ও নৈকাহন গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মাসুদ (৩২)।

খুলনায় গ্রেপ্তার ১৬ : ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতারা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন।

 

12 comments

  1. এরা সবাই চোর খুনি হাসিনার পা চাটা দালাল খুনি ভারতের দালাল পুলিশ চাই না

  2. এরা সবাই চোর খুনি হাসিনার পা চাটা দালাল খুনি ভারতের দালাল পুলিশ চাই না

  3. মোবাইল তল্লাসি করতে গিয়ে যদি পুলিশ তার স্ত্রীর পরকিয়ার প্রমাণ পায়, তবে তো ঐ লোক খতম।

  4. মোবাইল তল্লাসি করতে গিয়ে যদি পুলিশ তার স্ত্রীর পরকিয়ার প্রমাণ পায়, তবে তো ঐ লোক খতম।

  5. আল্লাহ জারা জনগণের টাকায় নিজেদের বৌ বাচ্চা ও সংসার চালায়,আর সেই জনগণ কে আজ তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে এদের উপর তোমার গজব নাজিল করো,

  6. আল্লাহ জারা জনগণের টাকায় নিজেদের বৌ বাচ্চা ও সংসার চালায়,আর সেই জনগণ কে আজ তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে এদের উপর তোমার গজব নাজিল করো,

  7. অতিরিক্ত কিছুই ভাগ না।

  8. অতিরিক্ত কিছুই ভাগ না।

  9. Anwarul Islam Anwar

    হাসিনার পতন নিজেরাই ঘটাবে জেনে বুঝে

  10. Anwarul Islam Anwar

    হাসিনার পতন নিজেরাই ঘটাবে জেনে বুঝে

  11. পুলীগ ধংশ হোক

  12. পুলীগ ধংশ হোক